পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন ও অর্থায়ন, গ্রেপ্তার ১১ নেতাকর্মী
রাজধানীর মিরপুর, সাভার ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দাবিকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামলেও এই আন্দোলনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সরাসরি ইন্ধন, অর্থায়ন এবং নাশকতার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
পোশাক খাতের এই অস্থিরতা নিয়ে সচিবালয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক ও মন্ত্রীদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী ইতোমধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরপরও এই বিশৃঙ্খলা চালানো প্রমাণ করে যে আওয়ামী ফ্যাসিজমের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করতে এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে ওপার থেকে ইন্ধন ও অর্থ জোগানো হচ্ছে।
এদিকে মিরপুরে আন্দোলন চলাকালে সহিংসতা, ভাঙচুর ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান নিশ্চিত করেছেন যে, আড়ালে থেকে সাধারণ শ্রমিকদের উসকানি প্রদান ও অর্থায়নের মাধ্যমে লোক সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শ্রমিক লীগ নেতা মো. কামাল গাজী, যুবলীগ কর্মী মো. রমজান সরকার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী রয়েছেন।