বাংলাদেশে ডায়াবেটিস চিকিৎসার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস প্রথমবারের মতো দেশে ডেনমার্কের বিশ্বখ্যাত কোম্পানি নভো নরডিস্কের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আধুনিক ইনসুলিন কার্ট্রিজ উৎপাদন শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে এখন থেকে ডেনমার্কের সমমানের ‘নভোমিক্স’ ও ‘নভোর‍্যাপিড’-এর মতো আধুনিক ইনসুলিন দেশের রোগীরা অনেক কম দামে ও সহজে সংগ্রহ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি ইনসুলিন উৎপাদনে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। তবে ওষুধের গুণগত মানে কোনো আপস করা যাবে না।” এ সময় তিনি আরও একটি বড় সুখবর দিয়ে জানান, সরকার খুব শিগগির দেশে একটি বিশাল ভ্যাকসিন উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপন করতে যাচ্ছে, যা হামসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক তৈরি করবে। ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মুলার এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আজকের দিনটি শুধু এসকেএফ নয়, বরং গোটা দেশের জন্য গর্বের। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে আমরা প্রতিটি ইনসুলিন উৎপাদন করছি যা নিরাপদ, কার্যকর ও সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন।” নভো নরডিস্কের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জয় থ্যায়গারাজন জানান, এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বায়োটেকনোলজির একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি লাভ করল।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খান এবং বারডেম একাডেমির পরিচালক ফারুক পাঠান এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, বায়োলজিক ওষুধ উৎপাদন অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া হলেও এসকেএফ তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে নভো নরডিস্ক বাংলাদেশে হিউম্যান ইনসুলিন উৎপাদন করে এলেও আধুনিক ইনসুলিন এতদিন আমদানি করতে হতো। এখন থেকে দেশেই এই উন্নত ইনসুলিন উৎপাদিত হওয়ায় ডায়াবেটিস আক্রান্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আসবে।