একটি দল প্রার্থীদের জেতাতে ভোটারদের ঢাকায় অন্তর্ভুক্ত করছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীদের জয়ী করতে দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকা মহানগরীতে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করছে।আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।মির্জা ফখরুল বলেন, মোট কত সংখ্যক ভোটার কোন কোন এলাকা থেকে ঢাকা মহানগরীর কোন কোন সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় কোন কোন তারিখে, কী কারণে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ঘোষিত কারণগুলো, স্থানান্ত...
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থীদের জয়ী করতে দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকা মহানগরীতে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করছে।
আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, মোট কত সংখ্যক ভোটার কোন কোন এলাকা থেকে ঢাকা মহানগরীর কোন কোন সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায় কোন কোন তারিখে, কী কারণে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ঘোষিত কারণগুলো, স্থানান্তরিত ভোটারদের বিস্তারিত বিবরণ জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করতে ইসিকে আমরা অনুরোধ করেছি।
তিনি আরও বলেন, পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। প্রবাসে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে ব্যালট পৌঁছানো এবং ব্যালট পেপার মুদ্রণে বিএনপির অভিযোগ ইসিকে দেওয়া হয়েছে।
'আমরা মনে করি, এই ব্যালট পেপারটি সঠিক নয়। এখানে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। কোনো একটি দলকে বিশেষভাবে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে এটাকে পরিবর্তনের জন্য আহ্বান জানিয়েছি।'
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ যেন প্রতীক বরাদ্দের পর দেওয়া হয়—ইসিকে এমন দাবি জানানো হয়েছে। নির্বাচনের দিন যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন, সেটা যেন বিএনপির প্রতীক বিতরণের পরই দেওয়া হয়। অর্থাৎ সঠিকভাবে একটা পোস্টাল ব্যালটে যেভাবে ভোট দেই, সেইভাবে যেন ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ। এটা ক্রিমিনাল অফেন্স। এই বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে আচরণবিধি ভঙ্গের আপত্তি জানিয়েছি। এই বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য বিএনপি লেভেল প্লেয়িং ফিন্ডে বিশ্বাসী। এ জন্য আমাদের দলের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছেন। অথচ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভঙ্গ করে দলীয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে আমরা জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা একটি দলের পক্ষে কিছু কিছু ন্যক্কারজনকভাবে কাজ করছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এই বিষয়গুলো আমরা তাদের গোচরীভূত করেছি।
সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে তদন্ত করে তাদের প্রত্যাহার করার অনুরোধ ইসির প্রতি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কতিপয় সিনিয়র কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি—তারা কোন একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছেন। আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।
বিএনপি সব সময় ইসিকে সহযোগিতা করে এসেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কতগুলো বিষয় আমরা লক্ষ্য করেছি—পক্ষপাতমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং কিছুটা পক্ষপাতমূলক একটা আচরণ আমরা লক্ষ্য করছি।
এই কমিশন দ্বারা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সব সময় মনে করি—এই কমিশন দ্বারা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, যদি সমস্যাগুলোকে সমাধান করা যায়। আমরা যে বিষয়গুলো তাদের সামনে এনেছি, তারা সেগুলো সমাধান করতে পারে।
বিএনপি কি মনে করছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হচ্ছে না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ইসির আছে। ছোটখাটো কিছু ত্রুটি আছে, সেগুলো তারা ঠিক করতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
ইসির ভেতরে প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে শুনানি চলছে, আর বাইরে দিনভর ছাত্রদলের ঘেরাও এবং অবস্থান কর্মসূচি—এই দুটি বিষয়কে কীভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রদলের আন্দোলন তো তারা বলবেন, তারা কীভাবে, কেন করছেন? তবে আমরা জানতে পেরেছি—একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন সেটা আবার করার অনুমতি দিয়েছে। এটা সঠিক হয়নি বলে মনে করি।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন নিয়ে ইসির সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল জানান, ইসির উচিত এই বিষয়টি নিয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়া, তা না হলে এটা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।