দেড় বছরেও অভিযুক্ত ২ পুলিশের বিচার শুরু হয়নি, আক্ষেপ শহীদ আবু সাঈদের ভাইয়ের
দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিচার শুরু না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তার ছোট ভাই আবু হোসেন।আজ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভায় এ আক্ষেপের কথা জানান তিনি।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।আবু হোসেন বলেন, আমার ভাই ছিলেন জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ। তাকে প্রকাশ্যে...
দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিচার শুরু না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তার ছোট ভাই আবু হোসেন।
আজ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভায় এ আক্ষেপের কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
আবু হোসেন বলেন, আমার ভাই ছিলেন জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ। তাকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়েছে, সেই দৃশ্য সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারও হয়েছে। দুই পুলিশ সদস্যকে গুলি করতে দেখা গেছে, অথচ এত সময় পেরিয়ে গেলেও তারা বিচারের মুখোমুখি হয়নি।
ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবু হোসেন বলেন, আবু সাঈদ ছিলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র। মানুষ তার আত্মত্যাগ দেখেছে। এরপর দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। কোটা সংস্কার আন্দোলন তখন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যার ফলে শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যে হত্যাগুলো ক্যামেরার সামনে ঘটেনি, অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলোর তদন্ত কীভাবে করবে? আমরা কীভাবে ন্যায়বিচার পাব?
তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে আবু হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে যেন শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, যারা অঙ্গ হারিয়েছেন, আজীবনের জন্য কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, রাষ্ট্রের উচিত তাদের দায়িত্ব নেওয়া। যেসব পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে, তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
সভায় জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্বজন এবং আহতরা দাবি জানান, বিএনপি পরবর্তী সরকার গঠন করলে যেন হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হয়। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হয়।
নিহতদের স্বজন ও আহতদের বক্তব্য শোনার সময় তারেক রহমানকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। তিনি কয়েকজন স্বজনকে জড়িয়ে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন।