চট্টগ্রাম নগরীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে শামসুল আলম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর বায়েজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বায়েজিদ বোস্তামি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আশরাফুল বলেন, 'নিহতের স্ত্রী ওই এলাকায় গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে বায়েজিদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে দুইজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, তিনি অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করেছেন।'

এর আগে মিদ্যাপাড়া মুরাদনগর এক নম্বর লেনে বাগবিতণ্ডার জেরে মারধরে খুরশিদ আলম (৫১) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। গত রাত ১১টা ১০ থেকে ১১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে বায়েজিদ থানার একটি টহল দল খুরশিদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৬টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, খুরশিদ অটোরিকশাচালক ছিলেন। কাজের সন্ধানে তিনি ওই এলাকার একটি গ্যারেজে গিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুই ব্যক্তি খুরশিদকে দোকান থেকে টেনে একটি গলিতে নিয়ে যান। তারা মারধর শুরু করলে খুরশিদ পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তৃতীয় এক ব্যক্তি তাকে আটকে দেন। ওই ব্যক্তি খুরশিদের হাত চেপে ধরে রাখেন এবং দুজনের একজন লাঠি দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত লাঠি হাতে ওই ব্যক্তি তাকে মারতে থাকেন। খুরশিদের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে তিনজন চলে যান। আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।

আশরাফুল বলেন, বাড়ি ফেরার সময় অসাবধানতাবশত মোহাম্মদ হোসেন (৪৩) নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। শামসুল আলম খুরশিদকে ধরে রেখেছিলেন এবং মোহাম্মদ হোসেন তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন।

'এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে,' বলেন তিনি।