ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যর্থ—এমন প্রমাণ নেই, বিবিসি ইন্ডিয়াকে তৌহিদ হোসেন
বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বুধবার বিবিসিতে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এসব কথা বলেন। এর একদিন আগে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ আরও চারটি মিশনে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবারকে প্রত্যাহারের পরামর্শ দেয় ভারত।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, 'নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা মিশন ও পোস্টের কর্মকর্তাদের ভারতে ফিরে যে...
বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
বুধবার বিবিসিতে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।
এর একদিন আগে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ আরও চারটি মিশনে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবারকে প্রত্যাহারের পরামর্শ দেয় ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, 'নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা মিশন ও পোস্টের কর্মকর্তাদের ভারতে ফিরে যেতে পরামর্শ দিয়েছি।'
তবে একই সঙ্গে বলা হয়, ভারতীয় মিশনগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালু রাখবে।
এ বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, 'ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ব্যর্থ—এর কোনো প্রমাণ নেই। তবে আমরা কিছুই বদলাতে পারব না। তারা যদি মনে করে এখানে নিরাপদ নয়, তাহলে সে সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারে।'
তিনি বলেন, 'এটি দুঃখজনক হলেও আমরা তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারি না।'
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ভালো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাইলে—দু'পক্ষকেই আগে সেটি চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একের পর এক পদক্ষেপে সম্পর্ক যদি নিচের দিকে নামানো হয়, তাহলে সেটাই হবে।'
গত প্রায় ৪০ বছর ধরে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার মনে হয়েছে ভারত কিছুটা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং তিনি আরও সংযত প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এর মধ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মিশনের কাছাকাছি সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর নয়াদিল্লি, আগরতলা ও কলকাতায় অবস্থিত মিশনগুলোতে কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করে বাংলাদেশ ।
তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ককে দৃঢ় করতে দুই দেশকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে, কারণ বর্তমানে এই সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই।
তিনি বলেন, 'আমাদের আরও বেশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া থাকা উচিত ছিল, এবং আমি সেটাই দেখতে চাই।'
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন এবং সেখানে আশ্রয় পেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল, তিনি সেখানে অবস্থানকালে এমন কোনো বক্তব্য দেবেন না, যা বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে বা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হয়।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, কিছু ঘটনা ঘটেছে, তবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'বিচারিক প্রক্রিয়া এক দিন বা এক মাসে শেষ হয় না। এতে সময় লাগে।'
একইসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ যেমন ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করে না, তেমনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও একই আচরণ প্রত্যাশা করা হয়।
বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বহুদিন ধরেই বাংলাদেশের একটি বৈধ রাজনৈতিক দল এবং তাদের একটি সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে।
ভারতের বিজেপির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একসময় বিজেপি মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল, পরে সেই দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে।
তার ভাষ্য, রাজনীতিতে উত্থান-পতন থাকেই, তাই কারও অপছন্দ হলেও জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল এবং তাদের নিজস্ব মতাদর্শ রয়েছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তিনি বলেন, 'পাকিস্তানের ক্ষেত্রে আগের সরকারের পুরো মেয়াদজুড়ে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ করা হয়েছিল।'
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু অমীমাংসিত ইস্যু থাকলেও দেশটি স্বাভাবিক সম্পর্কই চেয়েছে এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই, কারণ পাকিস্তান বাংলাদেশের আরেকটি প্রতিবেশী দেশ।