একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতেও শোকগাথা আর শোক সমাবেশ চলতে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, 'আর শোকগাথা বা শোক সমাবেশ নয়। বরং আসুন, গণতন্ত্রকামী মানুষ মিলে আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনা করি।'

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, 'ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও হতাহত হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য অর্জনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত, অত্যন্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, 'আমরা যদি একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হই, তাহলে এভাবেই আমাদের শোকগাথা আর শোক সমাবেশ করতে হবে। তাই গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।'

জুলাই অভ্যুত্থানকে কোনো একক দলের আন্দোলন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, '২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ছিল না। এটি ছিল সত্যিকার অর্থেই অধিকারহারা গণতান্ত্রিক মানুষের গণআন্দোলন।'

তারেক রহমান বলেন, 'দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল দল হিসেবে বিএনপি সেই দায়িত্ব অনুভব করে।'

জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শহীদ ও আহতদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে পূরণ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান অতিথি সারিতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসেন। শহীদ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বেদনা ও কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারেক রহমান মঞ্চের আসন ছেড়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে গিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেন এবং কথা বলেন।